fbpx
Ad imageAd image

‘হোয়াটস-আ্যপ সিন্ডিকেট’-চোরাচালান চক্রের হোতা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি?

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জবাসীর সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বোচ্চ আলোচিত-সমালোচিত বিষয় হচ্ছে চিনি চোরাকারবারের নেক্কারজনক ঘটনা। এছাড়াও স্থানীয় ও জাতীয় বহু পত্র-পত্রিকার হেডলাইনেও স্থান পেয়েছে আলোচ্য বিষয়টি কেননা এই চোরাকারবার সিন্ডিকেটের সাথে বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনসহ আওয়ামীলীগ-যুবলীগের কতিপয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। চোরাচালান একটি বেআইনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্য্যক্রম। সীমান্তের আইন-নির্দ্দিষ্ট পথ এবং শুল্কঘাঁটি এড়িয়ে পণ্য আমদানী বা রপ্তানী করলে চোরাচালান সংঘটিত হয়। যারা চোরাচালান করে তাদের বলা হয় চোরাচালানকারী। অনেক সময় চোরাচালানকে পণ্য পাচার হিসেবেও বণর্না করা হয়।সাধারণত: শুল্ক বিভাগ চোরাচালান প্রতিরোধে নিযুক্ত থাকে।

বাংলাদেশের শুল্ক আইন ১৯৬৯-এর ধারা ২(এস)-এ চোরাচালানের আইনি সংজ্ঞার্থ বিধৃত আছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এও চোরাচালান-এর আইনি সংজ্ঞার্থ দেয়া হয়েছে শাস্তির বিধান সংযোজিত হয়েছে। চোরাচালান এবং অবৈধ আমদানী সমার্থক নয়। বৈধ পথে বা শুল্ক ঘাঁটির মাধ্যমে চোরাচালান হয় না, হয় অবৈধ আমদানী যার উদ্দেশ্য শুল্ক ফাঁকি অথবা আমদানী-রপ্তানী আইন লঙ্ঘন এবং, ক্ষেত্র বিশেষে, উভয়ই। এছাড়া মুদ্রা, স্বর্ণ, পর্নো সামগ্রী ইত্যাদির জন্য পৃথক সংজ্ঞার্থ আছে। আর কিশোরগঞ্জে চলমান চিনির চোরাচালান উপরিউক্ত আইনসমূহ লঙ্ঘনের পাশাপাশি মৌলিক ফৌজদারি কার্যবিধিও লঙ্ঘন করছে।

- Advertisement -

ভারতে উৎপাদিত নিম্নমানের কাঁচামাল হতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে তৈরীকৃত এ চিনিতে খাদ্যগুণের পরিবর্তে রয়েছে কিডনি বিকল,উচ্চ- রক্তচাপ, ক্যান্সারসহ স্ট্রোকজনীত নানাবিধ রোগসৃষ্টিকারী বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। জনস্বার্থ ক্ষুন্ন করার অপরাধ অমার্জনীয় ও অবশ্য-দন্ডণীয়। ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার এই চোরাকারবারের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখন কেবল অভিযোগের পর্যায়ে নেই।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  অসংখ্য  দালিলিক প্রমাণ যেমন তার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং এর স্ক্রিনশট, অবৈধ  অর্থ লেনদেনের ট্রানজেকশন কপি ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজ সংগঠন ছাত্রলীগের অসংখ্য নাম প্রকাশ না করা নেতাকর্মী অভিযোগ তুলছেন তিনি বিবাহিত হওয়ার পরেও নেতৃত্ব আকড়ে ধরে রাখার বিষয়ে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে, তার ১ বছরের জন্য অনুমোদিত জেলা ছাত্রলীগ কমিটি পেয়ে তিনি বছরের পর বছর পার করছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও ঘোষণা ছাড়াই। এতে অসংখ্য ছাত্রদের মূল্যবান সময় ও শ্রমকে অর্থহীন করে তাদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে- থানা পর্যায়ে উপ-কমিটি অনুমোদনে বিপুল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের স্থলে অযোগ্য নেতৃত্ব গঠনের।

সম্প্রতি  জেলা পুলিশ কর্তৃক চোরাচালানের জব্দকৃত চিনি ও ট্রাক আলামত হিসেবে উত্থাপন করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা  রজ্জু করা হয়েছে। তাতে কিশোরগঞ্জের আপামর জনসাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট প্রতিকারের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের অন্তর্ভুক্ত করে নির্দোষ ব্যক্তিদের অব্যহতি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, নাজমুল হীরাসহ প্রকৃত অপরাধী কেউ অন্তর্ভুক্ত হননি রজ্জুকৃত মামলায়। দলমত নির্বিশেষে ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ জেলার সর্বসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কিশোরগঞ্জবাসী।

- Advertisement -

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *