fbpx
Ad imageAd image

হেফাজতের নগ্ন উল্লাস বনাম ক্রাইসিস ম্যান সৈয়দ আশরাফ

২০১৩ সালের ৫ই মে, কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগসহ ১৩ দফা দাবি তুলে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা শহর অবরোধের ঘোষণা দেয়।

এদিন পুরো ঢাকা শহর চলে যায় হেফাজতে ইসলামের দখলে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশ থাকলেও দুপুর থেকে তা তাণ্ডবে রূপ নেয়।তারা ঢাকা শহরের মতিঝিল এলাকায় অফিস পাড়া, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন, সিপিবি অফিস,বায়তুল মোকাররমের বইয়ের দোকান পুড়িয়ে শ্মশান বানিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ঘুড়িয়ে দেওয়ার, শাহবাগে আক্রমন করার হুংকার দিয়ে এগুচ্ছে। হাজার হাজার হেফাজত কর্মীর সামনে র‍্যাব-পুলিশ ছিল অসহায়। সরকার দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে মন্ত্রীরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সর্বত্র এক প্রকার উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

দেশের রাজনীতিতে মৌলবাদের এই ভয়াল থাবার ক্ষণে দেশের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ যখন মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পন করে বসে ছিলেন, ঠিক তখনি রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে মঞ্চে আবির্ভূত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আওয়ামি লীগের অন্যান্য নেতাদের মত ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি‘ ভূমিকা তিনি নেননি। নেগোসিয়েশন আর একশনের মধ্য থেকে একশনকেই বেছে নিয়ে সচরাচর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এবং কালেভদ্রে লোকালয়ে অথবা মিডিয়ার সামনে আসা এই ব্যক্তি একটা সংবাদ সম্মেলন করলেন।

ইস্পাতসম দৃঢ়তা নিয়ে বজ্রকন্ঠে বললেন, “এবার ত ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়েছে,আগামীতে ঢাকায় ও আসতে দেওয়া হবে না।প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।আমাদের শান্তিপূর্ণ আহবান আমাদের দূর্বলতা নয়।আপনারা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশ শেষ করে রাত ১০ টার মধ্যে ঢাকা শহর ত্যাগ করুন। তা না হলে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় দিবে না।”

- Advertisement -

সারাদিন ধরে চলা নগ্ন সাদা ঝড়ের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে তার এই বলিষ্ঠ হুঙ্কারেই লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলো ধর্মের লেবাসধারী হেফাজতে ইসলাম।

সৈয়দ আশরাফের একটি কথা এখনো কানে বাজে, ‘আমি লাভের জন্য রাজনীতি করি না। আমার পিতা সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, নেতার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এটাই আমার রক্ত।’ এটাই রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফের আসল পরিচয়। তিনিই নেতা, আওয়ামী লীগের ‘ক্রাইসিস ম্যান’।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আপনি আপনার পিতার গৌরব সূত্রে নয়, আপনি আপনার পিতার মতই অমর হয়ে থাকবেন আপনার কর্মের জন্য, বাংলাদেশকে বুক দিয়ে আগলে রাখার জন্য।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *