fbpx
Ad imageAd image

লিপ ইয়ার কী? লিপ ইয়ার ৪ বছর অন্তর অন্তর কেন আসে জানুন!

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট
লিপ ইয়ার কী লিপ ইয়ার ৪ বছর অন্তর অন্তর কেন আসে জানুন

২০২৪ সাল লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। অর্থাৎ এই বছর ২৮ দিনের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারি মাস হবে ২৯ দিনে, এক দিন বেশি। কিন্তু কেন?

পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে ৩৬৫ দিনে। আসলে ঠিক ৩৬৫ দিনে নয়। এর সঙ্গে আছে আরও ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড। আমাদের সুবিধার্থে এটাকে ধরি ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। এভাবে প্রতিবছর যদি ৬ ঘন্টা করে বাড়ে, তাহলে ৪ বছরে এটা দাড়াবে (৪×৬) = ২৪ ঘন্টা। অর্থাৎ পৃথিবীর ১ দিনের সমান। এই দিনটা হিসাব করা হয় চার বছর পরপর। যে বছর দিনটাকে হিসাবে ধরা হয়, সেই বছরটাকেই আমরা ইংরেজীতে বলি লিপ ইয়ার এবং বাংলায় বলি অধিবর্ষ। ২০২০ সাল ছিল অধিবর্ষ। এরপর ৪ বছরে ৬ ঘন্টা করে বাড়তে বাড়তে এখন আবার ২৪ ঘন্টা হয়েছে। তাই এই বছর ফেব্রুয়ারি মাস হয়েছে ২৯ দিনে। অর্থাৎ ২০২৪ সাল একটি অধিবর্ষ।

যেহেতু ৪ বছর পর পর এক বার অধিবর্ষ হয়, তাই যে কোনো সালকে ৪ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা গেলে সেই সালটি হয় অধিবর্ষ । যেমন ২০২৪ কে ৪ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায়। অর্থাৎ ২০২৪ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে পূর্ণসংখ্যা। সুতরাং, ২০২৪ সাল অধিবর্ষ। একই ভাবে ২০২৮, ২০৩২…২০৯৬ সাল হবে অধিবর্ষ। একই হিসাব অনুসারে, ২১০০ সালও অধিবর্ষ হওয়ার কথা। ২১০০÷8=৫২৫, কিন্তু ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে না। আবার ১৯০০, ১৮০০ সালও অধিবর্ষ ছিল না। কিন্তু এগুলো ৪ দ্বারা বিভাজ্য!  তাহলে কেন এই ব্যতিক্রম? এই সমস্যা সমাধানের একটা সহজ পদ্ধতি আছে। প্রথমে দেখতে হবে সালটি 8 দিয়ে বিভাজ্য কি না। যদি ৪ দিয়ে বিভাজ্য হয়, তাহলে ভাগ দিতে হবে ১০০ দিয়ে। আবারো যদি বিভাজ্য হয়, তাহলে সবশেষে ভাগ দিতে হবে ৪০০ দিয়ে। ব্যস, এবার বিভাজ্য হলে ধরে নিবেন এটি অধিবর্ষ। যেমন ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে না, কারণ সালটি ৪৩১০০ বিভাজ্য হলেও ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়। আবার ২০০০ সাল ৪, ১০০ ও ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য, তাই এই সালটি ছিল অধিবর্ষ।

তবে এই নিয়ম কিন্তু শুধু শতাব্দীর সালগুলো বের করার জন্য। মানে ১৫০০, ১৬০০, ১৭০০, ১৮০০ সালগুলো বের করার জন্য। সাধারণত কোনো সাল যেমন (২০২৪) অধিবর্ষ কী না, তা বুঝতে শুধু ৪ দিয়ে ভাগ করলেই হয়। ৪৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রচীন রোমান সম্রাট জুলিয়ান সিজার জুলিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন। এই ক্যালেন্ডার অনুসারে ৩৬৫ দিন বা ১২ মাসে বছর হলেও অধিবর্ষের হিসাব ঠিক ছিল না। আসলে জুলিয়ান সিজার অধিবর্ষের ব্যাপারটা জানলেও প্রতি একশ বছরে যে অধিবর্ষ হয় না, তা জানতেন না। এই সমস্যার সমাধান করেন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি। ১৫৮২ সালে তিনি জুলিয়ান ক্যালেন্ডারকে আরেকটু উন্নত করে গ্রেগরি ক্যালেন্ডার চালু করেন। মূলত ১০০ বছরের অধিবর্ষের হিসাবটা ঠিক করেন তিনি। বাকি সব কিছু ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের অনুরূপ। পোপ গ্রেগরি প্রতি ১০০ বছরে ১ দিন কমিয়ে আবার প্রতি ৪০০ বছরে ১ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এজন্যই আমরা ওপরে ১০০ ৩ ৪০০ দিয়ে ভাগ করে মিলানোর চেষ্টা করেছি সালটি অর্ধবর্ষ কি না! অনেক বছর গ্রেগরির ক্যালেন্ডার ইতালি ও স্পেনে ব্যবহৃত হতো। এরপর ১৭৫২ সালে গ্রেট ব্রিটেন গ্রেগরি ক্যালেন্ডার চালু করে। এরপর অনেক খ্রিষ্টধর্মীয় দেশ এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে শুরু করে। এভাবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

- Advertisement -

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *