fbpx
Ad imageAd image

লিখবই বা কি,গাইবই বা কি?

হাসিবুল হোসাইন।

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট
লিখবই বা কিগাইবই বা কি

এমন এক মানবসভ্যতার সমসাময়িক হয়ে জন্মেছি যারা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান-সিন্ধুর উত্তাল ঢেউয়ের সাথে ভেসে বেড়ায় দিকবিদিকশুন্য উদ্ভ্রান্তের মত। যারা চতুষ্পদ গর্দভের ন্যায় মানস:পৃষ্ঠে বয়ে বেড়ায় সহস্রাব্দের মানব-জিজ্ঞাসার স্বগোতক্তির এক অসীম ভার;ফলশ্রুতিতে তাদের সকলেরই বুদ্ধিমত্তার মেরুদণ্ড নুইয়ে রয়েছে সংশয়ের সম্মুখে,ঠিক যেন ফারাওপতির সম্মুখে ক্ষুধার্ত কোন এক মিশরীয় কিশোর।তারা আজ যতটা না গর্বিত বিংশ শতাব্দীর উত্তরাধিকার হিসেবে তার চেয়ে বেশি শঙ্কিত একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেন্জ গ্রহণ ও মোকাবেলায়। আজকের মানবচেতন যতটা সমৃদ্ধি লাভ করেছে অগ্রজের প্রস্তাবিত তত্ত্ব-সূত্র-নীতিতে তার চেয়েও বহুগুণে বিভ্রান্তিবোধ জেগেছে সেসব তত্ত্বের গাণিতিক বিশদ বর্ণনার ছাঁচে স্বীয় উপলব্ধির মূলভিত্তি ‘যৌক্তিকতাকে’ মানানসই রুপদানে।তথাকথিত আধুনিক মানবকূল থেলিস,আর্যভট্ট বা কনফুসিয়াস যুগের চিন্তাজগতে নিজেদের ব্যস্ততায় সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না বলে অলিম্পিক কায়দায় দৌড় তুলে পিথাগোরাস আর আর্কিমিডিসের ডেরায় কুর্ণিশ ঠুকে, আরব্য গুরুদলকে হাল্কা পাশ কাটিয়ে; ইউরোপীয় রেনেসাঁর অনুঘটক গ্যালিলিও গ্যালিলির চিন্তাসীমাকে ম্যারাথনের প্রাথমিক সমাপ্তিরেখা হিসেবে বিবেচনায় রেখেই ক্ষানিকটা বিশ্রামকালে কোপারনিকাস, কেপলারসহ নিউটন-লিবনিজ-হুকের সাথে মতবিনিময়ে অল্পবিস্তর সম্মানিতবোধ করতে শুরু করেন।প্রকৃতি সম্পর্কে নিজেদের অধিকতর উৎকৃষ্ট উপলব্ধি গঠনের নিমিত্তে তারা বুদ্ধিমত্তার কুপি বাত্তিতে কেরোসিন ঢালতে ঢালতে গাউস,ফ্যারাডে,ডাল্টন-থমসন, অ্যাম্পিয়ার আর ম্যাক্সওয়েলের বিচরণসীমায় এডিসন-টেসলার সেই ঐতিহাসিক পঞ্চায়েতে নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মুচকি হাসি নিয়ে।ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের রেডিয়েশন সমস্যার সমাধান বুঝতে যাওয়ার প্রাথমিক প্রচেষ্টাই ঠোটেঁর কোণে লেগে থাকা মুচকি হাসিটুকুকে দমিয়ে দেয়।শুরু হয় আধুনিক মানুষ হিসেবে বাস্তবতার  নূন্যতম উপলব্ধি অর্জনের প্রবল সংগ্রাম। একে একে আইনস্টাইন-মিনকোওয়াস্কির দেখানো পথে স্রোডিঙ্গার,ডিরাক,ফাইনম্যানের মত অতিমানবীয় পর্যবেক্ষকদের সামনে রাদারফোর্ড,বোর আর সমসাময়িকদের ফ্যাকাশে চেহারা আধুনিক মানবসত্ত্বাকে ব্যাকুল করে তোলে সত্য উপলব্ধি অর্জনে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার অসমতাকে অনুভব করার প্রয়াসে।ডি ব্রগলির দ্বৈততা গ্রহণ করে সেই প্রায়-ব্যার্থ প্রয়াসের কাঁটা গায়ে নুনের ছিটাঁ সরবরাহ করার মহান দ্বায়িত্ব। এমতাবস্থায় ফ্রিডম্যানের ছাত্র গ্যামো আধুনিক সমাজের সদস্যদের ফেলে দেন আর এক বিপাকে।তিনি আইনস্টাইনের অন্ধভক্তদের মুখে চুনকালি লেপ্টে দিয়ে আইনস্টাইনকেই চাপিয়ে দেন অবুঝের তকমা। সময়-জ্ঞানের কূটাভাস ক্ষুদ্র আর বৃহৎ-জগতে কার্যকর নীতিসমূহের বৈপরীত্য দূরীকরণের প্রচেষ্টার গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধেছে, যার যন্ত্রণায় কাতর একবিংশ শতাব্দীবাসী অভয় আশতেকার,জর্জ পুলিন,রজার পেনরোজ,লি স্মোলিন,স্টিফেন হকিং,শন ক্যারলের সুরে স্ট্রিং তত্ত্ব, সুপারস্ট্রিং তত্ত্ব, এম-তত্ত্ব,অতিমহাকর্ষ,AdS/CFT correspondence,হুইলার-ডিউইট সমীকরণ,লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ,ইউক্লিডীয় কোয়ান্টাম মহাকর্ষ,Causal Sets,টুইস্টর তত্ত্ব,শাখারভ আবেশিত মহাকর্ষ,Regge calculus,Acoustic metric,প্রক্রিয়া-পদার্থবিজ্ঞান,Causal dynamical triangulation,অ্যান এক্সেপশনাল্‌লি সিম্প্‌ল থিওরি অফ এভরিথিং,ওয়াইনবার্গ-উইটেন উপপাদ্য,ই-এইট কোয়াসি-ক্রিস্টালের প্রলাপ করতে শুরু করেছেন।প্রলাপের অর্থ কখনও বাস্তবতা অনুধাবনের মানবসীমাকে ছাড়িয়ে যায় শুরুতেই আবার কখনও অর্থ গিয়ে দাড়ায় অর্থহীনতার আশ্রয়ে ঠিক অনর্থের পাশে। উনবিংশ শতাব্দীর মানবসম্প্রদায় ও একবিংশ শতাব্দীর মানবসম্প্রদায়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য দাড়িয়েছে অনেকটা এমন পর্যায়ে- 

উনবিংশ শতাব্দীবাসী মনে করতেন তারা প্রায় সকল সত্যের উপলব্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছেন আর একবিংশ শতাব্দীবাসী মনে করেন: সত্য-মিথ্যা আলাদা করার পরশপাথর যুক্তি’র যৌক্তিকতার বৈধতায় অনিশ্চয়তা  সাংঘর্ষিক স্ববিরোধ তৈরী করে তাদের মনস্তত্ত্বকে কূটাভাসের কাল্পনিক মোড়কে পেঁচিয়ে দ্বৈততার আশ্রয় গ্রহণে একরকম বাধ্যই করছে। তাদের ভাষায়-“আমরা আসলে জানিইনা এখনও আমরা কি জানিনা”।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *