fbpx
Ad imageAd image

মধুর সমস্যায় একুশে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হক

একুশে পদক, জিয়াউল হক

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট

বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হচ্ছে একুশে পদক। প্রতিবছর বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক প্রদান করা হয়।

এবছর সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য বেসামরিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিয়াউল হক। তিনি পেশায় একজন দই বিক্রেতা। দই বিক্রি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বই কিনে বিতরণ করেন। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদক গ্রহণ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ শেষে রাতেই ঢাকা থেকে বাসে যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন জিয়াউল হক। এলাকায় পৌঁছান বুধবার সকালে। সারারাতের বাসযাত্রার ধকল সামলে বিশ্রাম নেওয়ার ও সুযোগ পাননি ৯০ বছর বয়সী এই সমাজসেবী। সারা দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর বাড়িতে আসেন। ক্লান্ত শরীর নিয়েও তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন।

গত সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ক্লান্তিতে ভেঙে পড়া শরীরে একদম বল নেই। কিন্তু মনোবল দৃঢ়। একপ্রকার মনোবলের জোরেই হাসিমুখে সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। এ যেন আমার জন্য এক মধুর যন্ত্রণা। মনে হয়েছে, আমি রাজ্য জয় করে আসা মানুষ। তাই মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো বিরক্তি বোধ করিনি।’

- Advertisement -

স্বজনদের ভাষ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকা থেকে ফেরার পর আত্মীয়স্বজন, গ্রামবাসীসহ প্রশাসনের লোকজন অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে জিয়াউলের বাড়িতে আসেন। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশের বিদ্যালয় মুসরীভূজা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসে একুশের শোভাযাত্রা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বললে জিয়াউল সেখানে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে আসেন। জেলা প্রশাসক তাঁকে বই উপহার দেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়।

দীর্ঘ বাস জার্নি, এলাকায় অনুষ্ঠান শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়িতে ফিরে বেলা তিনটার দিকে ঘুমাতে যান জিয়াউল হক। একটু ঘুম আসতে না আসতেই নওগাঁ থেকে এক সংবাদকর্মী আসেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরও অনেকেই বাড়িতে দেখা করতে আসেন। এভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে আসা মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

মুঠোফোনে কথা হয় জিয়াউল হকের স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রাতের বাসে স্বামীর বাড়ি আসার খবর শুনে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। সকালে বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, কখন তিনি আসবে এই অপেক্ষায় । বাড়ির সামনে রাস্তায় গাড়ি থেকে তাকে নামতে দেখেই দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরি। বাড়িতে এসেই তিনি প্রথমে স্বর্ণপদকটি আমার গলায় পরিয়ে দেন। আনন্দে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে যায়। জীবনের এমন অনুভূতি কাউকে বলে বোঝাতে পারব না।’

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *