fbpx
Ad imageAd image

ব্ল্যাক কোকেন : দেশের নতুন মাদক

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট
ব্ল্যাক কোকেন দেশের নতুন মাদক

গত বছরের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলে একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্তে মাদক কারবারি হিসেবে রুবেলের নাম আসে। ওই চালানে জড়িতদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ফরিদপুর কার্যালয় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ভুলবাড়িয়া গ্রামে আবু বক্কার ওরফে রুবেলের বাড়িতে অভিযান চালান। ডিএনসি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রুবেল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে, তার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ১২ গ্রাম ইয়াবার গুড়া, ১৫ গ্রাম আইস ও এক গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এসব মাদকের পাশাপাশি স্বচ্ছ একটি পলি প্যাকেট পায় আভিযান পরিচালনা করা দলটি। অতি সুরক্ষিতভাবে প্যাকেট টি সংরক্ষণ করার কারণে ডিএনসি কর্মকর্তাদের কিছুটা সন্দেহ হয়। কিন্তু সেটির ভেতরে থাকা পেন্সিলের শীষের মতো কালো ৪৪টি টুকরো সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কোন ধারণাই ছিলো না । যার প্রতিটি শীষ পৌনে এক ইঞ্চি লম্বা ও চিকন, ওজন সাত গ্রাম। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।
সম্পূর্ণ অপরিচিত এই নমুনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পলি প্যাকেট টি পাঠানো হয় ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় ডিএনসির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে।

অজানা ওই পদার্থটির প্রায় কয়েক সপ্তাহব্যাপী ফরেনসিক পরীক্ষার পর গত বুধবার কর্তৃপক্ষ মোট সাত গ্রাম ওজনের পদার্থটিকে ব্ল্যাক কোকেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসি-এর কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা।

ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ফরিদপুর থেকে পরীক্ষাগারে অজ্ঞাত বস্তু হিসেবে যে আলামত পাঠানো হয়েছিল, সেটি ব্ল্যাক কোকেন। মাস দুয়েক আগে মেক্সিকোতে দুই টন ব্ল্যাক কোকেন ধরা পড়ে। তবে এত তাড়াতাড়ি নতুন আঙ্গিকের এই কোকেন বাংলাদেশে আসবে, তা ভাবাও যায়নি। তিনি আরও বলেন, কোকেন উত্তেজক মাদক। অতিমাত্রায় উত্তেজক হওয়ায় এটি হার্টে গিয়ে আঘাত করে। ফলে এই মাদক সেবনে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

- Advertisement -

কোকেন সাধারণত পাউডার আকারে সেবন করা হয়। চোরাচালান সহজ করার জন্য ব্ল্যাক কোকেনকে প্রায়ই অ্যাসফল্ট, প্রিন্টার টোনার, কাঠকয়লা বা সারের রূপ দেওয়া হয়।

সিএনবিসিটিভি১৮-এর খবর অনুযায়ী, ব্ল্যাক কোকেন হলো সচরাচর পরিচিত সাদা কোকেন এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ। এ মিশ্রণের কারণে মাদকটির রঙ বদলে কালো হয়ে যায় আর অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের মতো রাসায়নিক পদার্থ যোগ করে কোকেনের গন্ধ দূর করা হয়।  ভিন্ন রঙ ও গন্ধহীন হওয়ার কারণে খুব সহজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। কারণ, এসব মিশ্রনের কারণে মাদকের রঙভিত্তিক পরীক্ষা এবং কুকুরের গন্ধশক্তির পরীক্ষায় ব্ল্যাক কোকেন ধরা পড়ে না।

মেক্সিকো এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে ব্ল্যাক কোকেন সাধারণ মাদকদ্রব্য হলেও বাংলাদেশে এ প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটি জব্দ করেছে।

ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ব্ল্যাক কোকেন কখনও বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। তাই এ সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত কোনো ধারণা ছিল না। বাংলাদেশে নতুন মাদক হিসেবে এটি শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব ইউনিটকে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।

ডিএনসির ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম হোসেন বলেন, রুবেলকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে। কোথা থেকে এসব মাদক আনা হয়েছিল এবং এসবের ক্রেতা কে বা কারা, তা তাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যাবে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০১৯ সালে দেশে নতুন মাদক হিসেবে সামনে আসে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ও এলএসডি।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *