fbpx
Ad imageAd image

নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি : সিরাজগঞ্জ-৫

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা-বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। নির্বাচনের পর থেকে নৌকায় যারা সমর্থক ছিলো তারা আমার ঈগল সমর্থকদের ওপর হামলা-মামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে যাচ্ছে। যা বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখাচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট
নৌকায় ভোট দেয়ার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি সিরাজগঞ্জ ৫

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছে আওয়ামী লীগ এর অর্ধশত নেতাকর্মী। এর থেকে রেহাই পাননি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংখ্যালঘুরা। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী দেলখোশ আলী প্রমানিক ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বুলবুল চৌধুরী, আব্দুল খালেক, রেজা নজরুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়া ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মমিন মণ্ডলের পক্ষে নির্বাচন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নির্দেশে নির্বাচনের দিন রাজাপুরে নৌকার এজেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানকে মারধার করা হয়। এছাড়া বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরে মেঘুল্লা, তামাই, চালা, গাড়ামাসি, চন্দনগাঁতি, জিধুরী, সুর্বণসাড়া, গোপালপুর, দেলুয়া, রাজাপুর ও বানিয়াগাঁতি এলাকায় নৌকার সমর্থক ও আওয়ামী লীগের অর্ধশত নেতাকর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে আহত করেছে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমথর্করা। এই বিষয় নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ দলের নেতাদের নামে বেশ কয়েকটি মামলাও দিয়েছে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা।

- Advertisement -

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মমিন মণ্ডলের নির্বাচন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নির্দেশে নির্বাচনের দিন আমার ওপর এবং আমার পরিবারের ওপর হামলা চালায় সাবেক এই মন্ত্রীর সমর্থক সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দসহ তার লোকজনেরা। তারা শুধু আমার ওপরে হামলা চালায়নি, আমার প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। আমি এখন প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আছি। দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণবাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। বিনিময়ে আজ নিজ দেশেই পরাধীনের মতো জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমাদের অপরাধ স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নির্বাচন না করে নৌকা মার নির্বাচন করলাম কেন? তারা শুধু আমার ওপর হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, মিথ্যা মামলা দিয়েও আমাকে হয়রানির শিকার করছে।’

তিনি আরোও বলেন, ‘নির্বাচনে লতিফ বিশ্বাসের হয়ে কাজ না করার কারণে আমার মতো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বেধরক পিটিয়েছে তার সমর্থকরা। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা এদেশে বসবাস করতে পারব না। আমি এই হামলা ও মিথ্যা মামলায় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী দেলখোস আলী প্রমানিক কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস তিনি তার জীবনে আওয়ামী লীগ থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন। সে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। আজ তিনি নৌকা এর বিপক্ষ হয়ে কাজ করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পরাজিত হওয়ার কারণে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলা করে আহত করেছেন। অনেকের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা এই নির্যাতনকারী লতিফ বিশ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আমরা সবাই শান্তিতে থাকতে পারব।’

রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা নৌকার সমর্থক ও কর্মীদের ওপর হামলা-মামলা করে যাচ্ছে। আমরা তার প্রতিকার চাই। পুলিশকে বারবার অভিযোগ দিলেও পুলিশ আইনিভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে না।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা-বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। নির্বাচনের পর থেকে নৌকা যারা সমর্থক ছিলো তারা আমার ঈগল সমর্থকদের ওপর হামলা-মামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে যাচ্ছে। যা বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখাচ্ছে।’

- Advertisement -

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান কিশোরগঞ্জ পোস্ট কে বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে যে কয়টা মামলা হয়েছে তার সকল মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আর সকল মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *