fbpx
Ad imageAd image

‘থিওরি অব এভরিথিং’- মানবসভ্যতার এক চুড়ান্ত আক্ষেপ!

হাসিবুল হোসাইন।

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক
থিওরি অব এভরিথিং মানবসভ্যতার এক চুড়ান্ত আক্ষেপ

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের কৌতুহল ও তা প্রশমিত করার উদগ্র বাসনাই মানুষকে আলাদা করেছে অন্যান্য প্রাণীকুল হতে। পৃথিবীতে মানবের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মূখ্য নিয়ামক হল তার উদ্ভাবনী শক্তি ও চিন্তাশীল চেতনা।মানুষ প্রশ্ন তৈরী করে সেসবের উত্তর বের করতে গিয়েই কালের পরিক্রমায় গড়ে তুলেছে আজকের আধুনিক মানব সভ্যতা। হাজার বছরের এ প্রশ্নোত্তরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও মানুষ আজকে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর করতে পারছে না। যুগে যুগে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই জন্ম দিয়ে আসছে আরও অনেক নতুন প্রশ্নের।

‘মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব’ আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রশ্ন যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে এ পর্যন্ত জানা-অজানা অসংখ্য গবেষক আত্মোৎসর্গ করেছেন দৃড়তার সাথে। মহাবিশ্বের নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনে মুশকিল হল,আমরা মহাবিশ্বকে যতই স্পষ্ট করে দেখতে চাই তা আরও অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুরুর দিকে এই পৃথিবীটাই ছিল আমাদের কাছে এক মহারহস্য,পরে সূর্যের গতিবিধি ও সৌরমণ্ডলের সঠিক মডেল তৈরী করতে অনেক বিজ্ঞানীকে প্রাণদন্ডে পর্যন্ত দন্ডিত হতে হয়েছে। কিন্তু মানুষ থেমে থাকেনি; জিওসেন্ট্রিক মডেল থেকে হেলিওসেন্ট্রিক মডেল তৈরী করেছে তারা।আজকের মানুষ বৃহৎ জগতের সীমানাকে ক্রমেই বিস্তৃত করে চলেছে। গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সি ঘুরে বেড়ায় আধুনিক মানবমন, ব্ল্যাক হোল আর নেবুলার চিত্র আঁকে মানসপটে।

বৃহৎ জগতের ঘটনাসমূহ নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক মহাকর্ষের ধারণা নিউটন থেকে আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটিতে এসে বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র জগৎ অনুসন্ধানে ডেমোক্রিটাস থেকে ডাল্টন কিংবা থমসন-রাদারফোর্ড-বোর সকলেই ছুটেছেন একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে, পদার্থ কিসের তৈরী? তারা কেউই চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেন নি বরং একে অন্যের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে গেছেন। পরমাণু থেকে মৌলিক কণা ইলেকট্রন, প্রোটন,নিউট্রন কিংবা স্ট্যান্ডার্ড মডেল অব পার্টিক্যাল এ বর্ণিত ফার্মিয়ন-বোসনের মিথষ্ক্রিয়া। মানুষ যতই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পর্যায়ে পদার্থকে পর্যবেক্ষণ করেছে ততই হতাশা ও অনিশ্চয়তার অসীম সমুদ্রে ডুবতে বাধ্য হয়েছে। ডি ব্রগলী তো যৌক্তিকভাবে ঘোষণাই করে বসেছেন যে,সকল পদার্থই নাকি একইসাথে কণা ও তরঙ্গ! অর্থাৎ আমি আপনি সবাই মৌলিকভাবে একধরণের তরঙ্গ যা কোন না কোন পর্যবেক্ষকের দয়ায় কণায়(আমাদের স্বরুপে) রুপ নেই।

শুধু তাই নয় হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার নীতিগত দাবি হচ্ছে-কোন কণারই অবস্থান আর গতীয় আচরণ একসাথে ঠিক করা যায় না।অর্থাৎ,আপনি কোথায় আছেন জানতে হলে আপনি কি করছেন জানা অসম্ভব বিপরীতক্রমে আপনি কি করছেন জানলে আপনি কোথায় তা জানা অসম্ভব!এখানেই শেষ নয়। কোয়ান্টাম তত্ত্বের এক অনস্বীকার্য ধারণা সুপারপজিশন বিজ্ঞানীদের ফেলে দিয়েছে এক গোলকধাঁধায়। কণা-পদার্থবিদ্যা সুপারপজিশন বলতে বুঝাতে চায়,একই কণা একই সময় একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে! তার মানে দাড়ায় আপনি একইসময় একাধিক স্থানে অবস্থান করতে পারেন!

- Advertisement -

এই ক্ষুদ্র জগতের জটিলতা হজম হওয়ার আগেই মানবসভ্যতার মনোজগৎ সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় মহাবিশ্বের বৃহৎ ও ক্ষুদ্র জগতের আচরণসমূহকে একীভূত করতে গিয়ে। আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে সকল ভরসম্পন্ন কণাই স্থান-কালের চতুর্মাত্রিক গঠনে বক্রতা তৈরী করে যা পার্শ্ববর্তী কণার গতিপথকে প্রভাবিত করে যাকে আমরা মহাকর্ষ বল হিসেবে অভিহিত করে থাকি। কিন্তু কণা-পদার্থবিদ্যা অনুসারে তো কণার কোন সুনির্দিষ্ট অবস্থানই নেই বরং একইসময়ে একাধিক স্থানে থাকতে পারে তারা। প্রশ্ন দাড়ায় তবে কণা সমূহ স্থানকালের কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে বক্রতা তৈরী করবে?

এ থেকে বলাই যায় গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ কোয়ান্টাম তত্ত্বের আলোকে কণাজগতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা ক্ষুদ্র জগতে মহাকর্ষ অপ্রাসঙ্গিক। তাই একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানীরা স্ট্যান্ডার্ড মডেল অব পার্টিক্যাল এর সাথে জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি কে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে অনেকগুলো কাল্পনিক ও পরীক্ষণ-অযোগ্য হাইপোথিসিস প্রস্তাব করে যাচ্ছেন যার মাঝে লুপ-কোয়ান্টাম-গ্র্যাভিটি,সুপার-গ্র্যাভিটি,সুপার-স্ট্রিং ও এম-থিওরিসহ অসংখ্য তত্ত্ব রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই মহাবিশ্বের স্থুল ও ক্ষুদ্র জগতের আচরণ বর্ণনার একীভূত কোন তত্ত্ব আবিষ্কার যা ‘থিওরি অব এভরিথিং’ এর সকল পরীক্ষায় পাশ করে যাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

হয়তো মানবসভ্যতার শেষ লগ্নেও এই অসমাপ্ত কাজে নিয়োজিত একদল মানুষের আক্ষেপ থেকে যাবে মহাবিশ্বের প্রকৃত চরিত্রের প্রতি। কৌতূহল যেমন মানুষকে মুক্তি দিয়েছে প্রাচীন অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে তেমনি এই কৌতুহলই মানুষকে এনে দাঁড় করিয়েছে আধুনিক অজ্ঞতার হতাশাজনক এক অসীম শূন্যে।।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *