fbpx
Ad imageAd image

কিশোরগঞ্জ-০১ (সদর-হোসেনপুর) : প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পরিবারের লড়াই

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডা: সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি নির্বাচনী এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করেন । তার বড় ভাই সৈয়দ সাফায়েত-ও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে নিজের আলাদা একটি বলয় তৈরি করেন। তাদের চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু-ও রাজনীতির মাঠে আলাদাভাবে সক্রিয় ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে সৈয়দ পরিবারের তিন ভাই–বোন আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ পোস্ট
কিশোরগঞ্জ ০১ আসন প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পরিবারের লড়াই

কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ সদর- হোসেনপুর) আসন থেকে ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তা নিশ্চিত করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। তারা হলেন- সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), সৈয়দ নাফিস নজরুল রাইয়ান (স্বতন্ত্র), অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন (গণতন্ত্রী পার্টি), ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি (আওয়ামী লীগ), ডা. মো. আব্দুল হাই (জাতীয় পার্টি), অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু (স্বতন্ত্র), আনোয়ারুল কিবরিয়া (স্বতন্ত্র), মোবারক হোসেন (স্বতন্ত্র), শরীফ আহমদ সাদী (স্বতন্ত্র) ও মো. নাসির উদ্দিন (জাকের পার্টি)।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের তিন ভাই-বোন। তারা হলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের এ আসনের সদস্য ও আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ডা: সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম এবং তাদের চাচাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাফুল ইসলাম টিটু।

এই তিনজন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই সন্তান ও ভাতিজা। একই সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টিসহ আরো কয়েকটি মনোনয়ন পত্র জমা পড়লেও তিন ভাই–বোনের আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পর এবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে মুখরোচক আলোচনাও সৃষ্টি করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর)  মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সারা দেশের মতো সকাল দশটা থেকে মনোয়ন ফরম জমা নেয়া শুরু করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ডা: সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির মনোনয়নপত্র জমা দেন তার ছোট বোন সৈয়দা রাফিয়া নূর রুপা।

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলামের মনোনয়নপত্র জমা দেন তার বড় ছেলে সৈয়দ নাফিস নজরুল রাইয়ান। সৈয়দ আশফাফুল ইসলাম টিটু নিজে এসে জমা দেন তার মনোনয়নপত্র।

এদের মধ্যে সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাকি দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এ বিষয়ে সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রে সবার রাজনীতি করার ও সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। তাছাড়া এ বছর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বিষয়টা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে চাইলে যে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারবে। তাই আমি প্রার্থী হয়েছি।

সৈয়দ আশফাফুল ইসলাম টিটু বলেন, রাজনীতি তো পরিবার কেন্দ্রিক হয় না, রাজনীতি হয় আদর্শিক। যোগ্যতা থাকলে এক পরিবার থেকে দুইজন তিনজন প্রার্থী হতেই পারে। সেক্ষেত্রে জনগণ বিচার করবে কাকে ভোট দিলে, কাকে নির্বাচিত করলে কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন হবে। তিনি আরো জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। দলীয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা না থাকায় ও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশায় আমি এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেই আমার বেড়ে ওঠা। আমি রাজপথের একজন কর্মী। 

- Advertisement -

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে যারা নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন তারা সবাই যোগ্য। আমার ব্যক্তিগত কেউ পছন্দ নেই। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তার পক্ষ হয়েই কাজ করবো।

আওয়ামী লীগের দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলামের বড় ছেলে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ-০১ আসনে নির্বাচিত হলেও শপথ নেয়ার পূর্বে ৩ জানুয়ারি ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে কিশোরগঞ্জ-০১ আসনটি শূণ্য হয়ে যায়। পরে উপনির্বাচনে তার ছোট বোন ডাঃ জাকিয়া নূর লিপি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সংসদ সদস্য মনোনীত হন। ওই উপনির্বাচনে তার বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডা: সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি নির্বাচনী এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করেন । তার বড় ভাই সৈয়দ সাফায়েত-ও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে নিজের আলাদা একটি বলয় তৈরি করেন। তাদের চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু-ও রাজনীতির মাঠে আলাদাভাবে সক্রিয় ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে সৈয়দ পরিবারের তিন ভাই–বোন আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

- Advertisement -

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে মনোয়নপত্র বাছাইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *