fbpx
Ad imageAd image

এই দুঃসহ স্মৃতি কি ভোলা যায়?

এশিয়া কাপ

হাসান লিংকন
হাসান লিংকন

শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। কিন্তু পারলো না টাইগাররা। শেষমেশ ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের খুব কাছে পৌছেও শিরোপা ছোয়া হয়নি। এই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তথা ক্রিকেটমোদী আপামর জনতাকে।

২২ মার্চ, ২০১২। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে জয় থেকে তখন মাত্র একটি ম্যাচ দূরে বাংলাদেশ।

টুর্ণামেন্টের প্রথম থেকেই দূর্দান্ত শুরু করা বাংলাদেশ অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি। তবে চোখে চোখ রেখে লড়েছে। ভারত, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেয়েছে দুর্দান্ত জয়। এই সুবাদে ফাইনালে চলে যায় বাংলাদেশ এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় সেই পাকিস্তানকে।

প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের প্রতিশোধ না আবারো হারের পুনরাবৃত্তি? এই সমীকরণ সামনে নিয়েই মাঠে নামে লাল সবুজের জার্সিধারীরা।

- Advertisement -

এদিন শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তান কে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দিবা রাত্রির ম্যাচে পরে বোলিংয়ে ক্ষেত্রে শিশিরের সমস্যা হতে পারে বিধায় মুশফিকের এ সিদ্ধান্ত। এছাড়া গ্রুপ পর্বে টিম ইন্ডিয়া ও লঙ্কানদের বিপক্ষে রান তাড়া করে জেতে টাইগাররা।

অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণে বাংলাদেশী বোলাররা অবশ্য বিলম্ব করেননি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ওপেনার নাসির জামশেদকে ব্যক্তিগত ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান। পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে রান ৭০ হতে হতেই সাজঘরে ফিরেন আরো তিন ব্যাটসম্যান।

পরে মিডলঅর্ডার ও লোয়ার মিডলঅর্ডারের ব্যাটসম্যানরা হাল ধরেন। ফলে চাপ কিছুটা কাটিয়ে উঠে পাকিস্তান।  মাঝখানে উমর আকমল ও হাম্মাদ আজম উভয়ই করেন ৩০ রান করে।  শেষদিকে স্বভাবসুলভ ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন শহীদ আফ্রিদি।  সবার যাওয়া-আসার মধ্যে দুর্দান্ত খেলেন উইকেট কিপার সরফরাজ আহমেদ। তিনি ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন।  শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান। ফিফটির দেখা পায়নি কোন ব্যাটসম্যান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ । ৬৮ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও নাজিমুদ্দীন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। দলীয় ৮১ রানে ব্যক্তিগত ৬০ রান করে উমর গুলের বলে ইউনুস খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তামিম। এর  আগে  নাজিমু্দ্দিন করেন ৫২ বলে ১৬ রান।

বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান কে আউট করে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের উল্লাস

পরে নাসির হোসেন ৬৩ বলের মোকাবিলায় করেন মাত্র ২৮ রান। ৭২ বলে ৬৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে আউট হন সাকিব আল হাসান।  ততক্ষণে  জয়ের  ভিত  পেয়ে  যায়  বাংলাদেশ।  শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৪৭ রান।  তখনই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম।

- Advertisement -

শেষ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯ রান।  বোলার ছিলেন  পাকিস্তানের  আইজাজ চিমা। প্রথম ৪ বলে ৫ রান নেন ব্যাটসম্যানরা। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান রাজ্জাক।  শেষ বলে লেগ-বাই থেকে আসে ১ রান। শেষ পর্যন্ত  ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

হারের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাকিব, মুশফিক, নাসিররা। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। এই প্রথম কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ,কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। এই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় তাদের। তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার ওঠে এক বাংলাদেশীর হাতে।

Subscribe

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

ট্যাগ

ফলো করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় খবর
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *